সুদূরের কণ্ঠস্বর

কিছু কথা, কিছু ব্যাথা, কিছু ভালোলাগা আর হৃদয়ের আর্তি নিংড়ে গড়ে ওঠা এক অনুভূতির জগত...

রক্তাক্ত উল্লাস (রক্তাক্ত সুখ-এর ২য় পত্র)


মানুষ পৃথিবীতে আসে একাকী। দিনে দিনে এখানে সে অনেককে দেখে, মেশে। অনেকের জন্য হৃদয়জুড়ে তৈরী হয় দুর্নিবার অনুভূতি। তারপর...........এক সময় সব শেষ হয়ে যায়। নিঃসঙ্গতার নীল আলোয় আবগাহন করতে করতে হারিয়ে যেতে হয় মহাকালের অতল গহ্বরে.....। কেউ কি বলতে পারে, কেন এমন হয়?




গীর্জাটি এখনো পড়ে আছে
নির্জন,স্পন্দনহীন কোন স্থানে
পরিচর্যার কেউ নেই
ছোঁয়াও হয় না বাইবেলটি
দেয়ালে আশ্রয় নিয়েছে গাছ
আগাছা আগলে রেখেছে পথটি।


প্রদীপটি নিভে গেছে।
অন্ধকারে পড়ে আছে যীশু
নিভৃতে,ঘুণে ধরা বেদীর ওপরে।
যীশুর সমস্ত দেহে এখন
ময়লার পুরু আস্তরণ।
আসে না ঈশ্বরের দূত;
ঈশ্বর ভুলে গেছেন যীশুকে।
গীর্জার প্রতিটি বর্গ ইঞ্চিতে
এখন শুধুই রক্তের গন্ধ।

রক্তাক্ত সুখ

শূণ্যতার মাঝে কেউ কিছু খোঁজে না। আমি খুঁজি। আমার হারিয়ে যাওয়া সত্তাকে, আমার আমাকে। জীবনের পথে নিয়ত হেঁটে চলা ক্লান্ত, রিক্ত এই পথিকের অপেক্ষার শেষ কোথায়?





একে একে সবাই চলে গিয়েছে
প্রার্থণার পর, শূণ্য গীর্জা
পড়ে থাকে আবছা অন্ধকারে
হঠাৎ আলোকিত হয় বেদী
ঈশ্বরের দূত অবস্থান নেয়
একটি মোমের উপর
যীশু আর একা নয়
সে এখন ক্রুশবিদ্ধ, রক্তাক্ত
এবং নগ্ন এক সুখী পুরুষ।

অবাস্তব আকাঙ্খা

প্রতিটি মানুষেরই কিছু না কিছু আকাঙ্খা থাকে, থাকে তাদের না পাওয়ার হাহাকার। অবাস্তব সেই আকাঙ্খাগুলো বাস্তবতার সাথে তৈরী করে অনেক দূরত্ব। মানুষ তার সারাটা জীবন ধরে চেষ্টা করে এই দূরত্ব কমানোর। পারেনা। আর পারেনা বলেই সেই আকাঙ্খাগুলোর স্পর্শ নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। সময় চলে যায় কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না.........




তুমি কেন এত সুন্দর?
কোন্ অপার্থিব নীলিমায় সৃষ্টি?
অস্পৃশ্যতার আড়ালে অনুভূতির ছোঁয়া
অবাস্তবতার সুস্পষ্ট দেয়াল
যাকে ভাঙতে আমি অপারগ।


তোমায় খুঁজে ফিরি আমি-
অদৃশ্যালোকে, তবুও প্রাকৃতিক পরিবেশে
তোমার প্রত্যক্ষ আস্তিত্বিক প্রকাশ।
যেভাবে খুঁজে ফেরে জ্যোতির্বিদ;
নীহারিকা, দূর নক্ষত্রালোকে।


আমার ব্যার্থতায় আমার বিরহ
প্রতিক্ষণে আমার আর্ত হাহাকার
প্রতিটি রাত, দুঃস্বপ্নময়।
দূর হতে ভেসে আসা কন্ঠস্বর-
চিনিয়ে দেয় নিজেকে।


আমার আকাঙ্খার মাঝে তুমি
নারী নও, কোন এক মায়াবী সত্তা;
তোমাকে পাবার আকাঙ্খায় আমি
বেঁচে রব, জন্ম থেকে জন্মান্তরে।


তবু জানি, পাবনা তোমায়
কোনদিনই-
কেননা তোমাকে শুধুই অনুভব করা যায়,
ভোগ করা যায় না।

অচেনা আবরণ

মানুষের মন খুব চঞ্চল। জীবনের চলার পথে কখন যে কাকে ভালো লেগে যায়, কেউ বলতে পারে না। সেই ভালোলাগার কথা তাকে কি বলা যায়? না বলা কথাগুলো জমাট বেধে যখন অলিন্দের চাপ বাড়াতে থাকে, অনুভূতির প্রগাঢ়তায় তখন জন্ম হয় কবিতার।




ভুলে যাও জীবনের দুঃখগুলো
খুঁজে নাও সুখ-
বেরিয়ে এস কষ্টের বৃত্ত থেকে।
কেঁদো না নিজে,কাঁদিওনা কাউকে
উদ্ভাসিত হও স্বর্গীয় হাসিতে।
হয়ত কেউ দেখছে তোমায়,
বহুদূর থেকে,সঙ্গোপনে।
যে তোমার পাশে থকে অনুক্ষণ
আজও বুঝলে না তাকে,
চিনলেনা কোনদিনই।
অভিমানে তাকে দিও না দুঃখ-
হয়ত সে কাঁদে তোমার কষ্টে,
পরম বন্ধুর মত-
নিভৃতে,একাকী বসে।

এ পর্যন্ত যারা এখানে এসেছেন

কবিতার খাতা

কপি - পেস্ট সুরক্ষিত ব্লগ

Protected by Copyscape Originality Checker

কপিরাইট

Creative Commons License
সুদূরের কণ্ঠস্বর by jabir rizvi is licensed under a Creative Commons Attribution-Noncommercial-Share Alike 3.0 Unported License for jabirrizvi.blogspot.com.

মোহনার বালুচরে , একসাথে..